হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

অনেক অনেক বছর আগে, জার্মানির হ্যামিলন নামক একটি ছোট শহরে এক ভয়াবহ সমস্যা দেখা দেয়। শহরজুড়ে ইঁদুরের উপদ্রব শুরু হয়। ছোট-বড় সব দোকান, ঘরবাড়ি, গুদাম—কোনো জায়গাই বাদ থাকেনি। ইঁদুরেরা খাবার নষ্ট করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে, এমনকি শিশুদের পর্যন্ত ভয় দেখায়। শহরের মানুষ এই দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে।

শহরের মেয়র এবং নেতারা অনেক চেষ্টা করেও ইঁদুর তাড়াতে ব্যর্থ হন। তখন একদিন শহরে আসে এক অদ্ভুত মানুষ—তার গায়ে রঙিন জামা, হাতে একটি বাঁশি। সে মেয়রের কাছে গিয়ে বলে, “আমি যদি তোমাদের শহর ইঁদুরমুক্ত করি, তবে কী পুরস্কার দিবে?”

মেয়র বলেন, “তুমি যদি সত্যি ইঁদুরদের তাড়াতে পারো, তবে আমরা তোমাকে মোটা অঙ্কের স্বর্ণমুদ্রা দিবো।”

বাঁশিওয়ালা রাজি হয়। সে তার বাঁশি বাজাতে শুরু করে। এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে—শতশত ইঁদুর তার সুর শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। বাঁশিওয়ালার পেছনে পেছনে তারা শহর ছেড়ে নদীর দিকে চলে যায়। অবশেষে সব ইঁদুর পানিতে ডুবে যায়।

শহরবাসী আনন্দে ফেটে পড়ে। কিন্তু মেয়র প্রতিশ্রুতি রাখে না। সে বাঁশিওয়ালাকে মাত্র কিছু কয়েন দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

রাগে ও দুঃখে বাঁশিওয়ালা আবার তার বাঁশি বাজায়। এবার এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে—শহরের সব শিশু তার সুরে মোহিত হয়ে পেছনে পেছনে হাঁটতে থাকে। বাঁশিওয়ালা তাদের নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। হঠাৎ পাহাড়ের মধ্যে একটি গুহা খুলে যায়, এবং সে সব শিশু নিয়ে গুহায় ঢুকে পড়ে। তারপর গুহার দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

শহরবাসী তাদের সন্তানদের হারিয়ে হতবাক ও ভীত হয়ে পড়ে। অনুশোচনায় পড়ে মেয়রও। কিন্তু কিছুতেই সেই শিশুদের আর ফিরে পাওয়া যায় না।

নৈতিক শিক্ষাঃ
কথা রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিশ্রুতি ভাঙলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *