admin

কাবুলিওয়ালা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার পাঁচ বছর বয়সের ছোটো মেয়ে মিনি এক দণ্ড কথা না কহিয়া থাকিতে পারে না। পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করিয়া ভাষা শিক্ষা করিতে সে কেবল একটি বৎসর কাল ব্যয় করিয়াছিল, তাহার পর হইতে যতক্ষণ সে জাগিয়া থাকে এক মুহূর্ত মৌনভাবে নষ্ট করে না। তাহার মা অনেক সময় ধমক দিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেয়, কিন্তু…

বিস্তারিত

খেলা

হাবিবুর রহমান শীতের শেষে গিয়েছিলামবাদামতলির মেলা,তিনটে মোটে পয়সা নিয়েকাটিয়ে দিলাম বেলা।অনেক করে ঘুরে-ফিরেকিনে নিলাম লাঙ্গলটিরে।তারে নিয়ে একা একাকাটাই এখন বেলা,সাত সকালে উঠে করিজমি চাষের খেলা।ধুলো দিয়ে আপন মনেআমন ফসল বুনি,সোনার ধানের ডাক যেতখন হৃদয় ভরে শুনি।নাওয়া-খাওয়া হয় না আমারকখন যে যায় বেলা,লাঙ্গল চষি ফসল বুনিফুরায় না মোর খেলা।এই জমিটি ধানে ধানেতুলব ভরে গানে গানে।একটি স্বপ্ন…

বিস্তারিত

গ্রীষ্মের দুপুরে

ফজলুর রহমান ঘাম ঝরেদরদরগ্রীষ্মের দুপুরেখাল বিলচৌচির,জল নেই পুকুরে।মাঠে ঘাটেলোক নেই,খাঁ খাঁ করে রোদ্দুর!পিপাসায়পথিকেরছাতি কাঁপে দুদ্দুর।রোদ যেননয়, শুধুগনগনে ফুলকি।আগুনেরঘোড়া যেনছুটে চলে দুলকি।ঝাঁঝ মাখাহাওয়া এসেডালে দেয় ঝাপটা!পাতা নড়েফুল পড়েবাপরে কি দাপটা! বিল ধারেচিল বসে’ঘন ঘন ডাকে রে।মাঝি বসে ঢুল খায়খেয়াঘাট বাঁকে রে!

বিস্তারিত

চালাক বুড়োর টাকাকড়ি

পাথর কুঁদেই দিন কাটত সেই বুড়োর। একদিন পাথর নিতে গিয়ে বুড়ো দেখে পাথরের একটা ফোকরের মধ্যে ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে আছে একটি সোনাব্যাঙ। ব্যাঙটার রঙ যেমন সোনালি সবুজ, ঠিক তেমনি তরতাজা সেই ব্যাঙটা।ব্যাঙটাকে দেখেই বুড়োর বুকে উথাল-পাতাল করে উঠল পরিবর্তনের ঢেউ। বুড়ো ভাবে, শুকনো খটখটে এই নীরস পাথরের মধ্যে থেকেও ব্যাঙটা কেমন হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পাথরের…

বিস্তারিত

মজন্তালী সরকার

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এক গ্রামে দুটো বিড়াল ছিল। তার একটা থাকত গোয়ালাদের বাড়িতে, সে খেত দই, দুধ, ছানা, মাখন আর সর। আর একটা থাকত জেলেদের বাড়িতে, সে খেত খালি ঠেঙার বাড়ি আর লাথি। গোয়ালাদের বিড়ালটা খুব মোটা ছিল, আর সে বুক ফুলিয়ে চলত। জেলেদের বিড়ালটার গায় খালি চামড়া আর হাড় কখানি ছিল। সে চলতে গেলে টলত…

বিস্তারিত

শহুরে ইঁদুর ও গেঁয়ো ইঁদুর

উপেন্দ্রনাথ দাস এক শহুরে ইঁদুরের সঙ্গে এক গেঁয়ো ইঁদুরের বন্ধুত্ব ছিল। একদিন গেঁয়ো ইঁদুর ভাবলে, ‘অনেক দিন আমার বন্ধুকে দেখি নি। একবার তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে মন্দ হয় না।’ আবার ভাবলে, ‘কিন্তু আমি তো শহরের পথঘাট চিনি নে। যাই বা কী ক’রে। তার চেয়ে বরং এক কাজ করা যাক। তাকেই এখানে আসতে চিঠি লিখে…

বিস্তারিত

টুনটুনি আর বিড়ালের গল্প

টুনটুনি আর বিড়ালের গল্প
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী

গৃহস্থের ঘরের পিছনে বেগুন গাছ আছে। সেই বেগুন গাছের পাতা ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে টুনটুনি পাখিটি তার বাসা বেঁধেছে।

বাসার ভিতরে তিনটি ছোট্ট-ছোট্ট ছানা হয়েছে। খুব ছোট্ট ছানা, তারা উড়তে পারে না, চোখও মেলতে পারে না। খালি হাঁ করে আর চি চি করে।

গৃহস্থের বিড়ালটি ভারি দুষ্টু। সে খালি ভাবে ‘টুনটুনির ছানা খাব।’ একদিন সে বেগুন গাছের তলায় এসে বললে, ‘কী করছিস লা টুনটুনি?’

টুনটুনি তার মাথা হেঁট করে বেগুন গাছের ডালে ঠেকিয়ে বললে, ‘প্রণাম হই, মহারানী!’

তাতে বিড়ালনী ভারি খুশি হয়ে চলে গেল।

এমনি সে রোজ আসে, রোজ টুনটুনি তাকে প্রণাম করে আর মহারানী বলে, আর সে খুশি হয়ে চলে যায়।

এখন টুনটুনির ছানাগুলি বড় হয়েছে, তাদের সুন্দর পাখা হয়েছে। তারা আর চোখ বুজে থাকে না। তা দেখে টুনটুনি তাদের বললে, ‘বাছা, তোরা উড়তে পারবি?’ ছানারা বললে, ‘হ্যাঁ মা, পারব।’

টুনটুনি বললে, ‘তবে দেখ তো দেখি, ঐ তাল গাছটার ডালে গিয়ে বসতে পারিস কিনা।’

ছানারা তখনই উড়ে গিয়ে তাল গাছের ডালে বসল। তা দেখে টুনটুনি হেসে বললে,
‘এখন দুষ্ট বিড়াল আসুক দেখি!’

খানিক বাদেই বিড়াল এসে বললে, ‘কী করছিস লা টুনটুনি?’

তখন টুনটুনি পা উঠিয়ে তাকে লাথি দেখিয়ে বললে, ‘দূর হ, লক্ষ্মীছাড়ী বিড়ালনী!’

বলেই সে ফুড়ক করে উড়ে পালাল।

দুষ্টু বিড়াল দাঁত খিঁচিয়ে লাফিয়ে গাছে উঠে টুনটুনিকেও ধরতে পারল না, ছানাও খেতে পেল না। খালি বেগুন কাঁটার খোঁচা খেয়ে নাকাল হয়ে ঘরে ফিরল।

বিস্তারিত

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা

অনেক অনেক বছর আগে, জার্মানির হ্যামিলন নামক একটি ছোট শহরে এক ভয়াবহ সমস্যা দেখা দেয়। শহরজুড়ে ইঁদুরের উপদ্রব শুরু হয়। ছোট-বড় সব দোকান, ঘরবাড়ি, গুদাম—কোনো জায়গাই বাদ থাকেনি। ইঁদুরেরা খাবার নষ্ট করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলে, এমনকি শিশুদের পর্যন্ত ভয় দেখায়। শহরের মানুষ এই দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। শহরের মেয়র এবং নেতারা অনেক চেষ্টা করেও ইঁদুর…

বিস্তারিত

আসল কথা || অজিত দত্ত

অজিত দত্ত একটি আছে দুষ্টু মেয়ে,একটি ভারি শান্ত,একটি মিঠে দখিন হাওয়া,আরেকটি দুর্দান্ত। আসল কথা দুটি তো নয়,একটি মেয়েই মোটে,হঠাৎ ভালো হঠাৎ সেটিদস্যি হয়ে ওঠে। একটি আছে ছিঁচকাঁদুনিএকটি করে ফুর্তি,একটি থাকে বায়না নিয়ে,একটি খুশির মূর্তি। আসল কথা দুটি তো নয়,একটি মেয়েই মোটে,কান্নাহাসির লুকোচুরিলেগেই আছে ঠোঁটে। (সংক্ষেপিত)

বিস্তারিত